আমাদের অগ্রজ, ফজলুল হক মুসলিম হলের সাবেক ভিপি, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড.এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মাধ্যমে আজ আমরা তাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরন করছি।
আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের নিকট তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
কিছু মুহুর্ত স্যারকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল তাতে আমার মনে হয়েছে তিনি ছিলেন প্রচন্ড স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন একজন মানুষ।
একটি ঘটনা মনে এখনো দাগ কেটে আছে...
তখন বিএনপি ক্ষমতায়,
আমরা ছাত্রলীগ করি, আমি তখন এফ এইচ হলের সাধারন সম্পাদক,
ক্যাম্পাস তখন প্রায়ই উত্তপ্ত থাকে এরইমাঝে
একবার আমরা আমাদের ফজলুল হক হলে একটি আলোচনাসভা এবং ইফতার অনুষ্ঠানে ড.ওয়াজেদ স্যার কে আমন্ত্রন জানাতে যাই
মাননীয় নেত্রী তখন দেশের বাইরে
সবাই বলতেছিল ড.ওয়াজেদ স্যার অসুস্থ, তার স্মৃতিশক্তির প্রখরতা আগেরমত নেই এমন সময় তাকে হলে নেয়া ঠিক হবেনা বাইরে গেলে আরো অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন তিনি,
তখন নেত্রী শুনলে আমাদের খুব উপর রাগ করতে পারেন। এটা শুনে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম এমনিতেই আমরা বিরোধী দল করি,
ক্যাম্পাস তখন ছাত্রদলের দখলে যদি কোন সমস্যা হয়ে যায় তাহলে আমাদের জবাব দেবার কিছু থাকবেনা।
উপায় না দেখে আমরা তখন আমাদের হলের আরেক অভিভাবক, হলে একটি মিলাদ পড়লেও যাকে আমরা পাশে পেতাম, যিনি আমাদের হলের ছাত্রদের তার উত্তরসূরী বলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন, যার সাথে সুখে দু:খে অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেতাম সেই প্রয়াত জননেতা জনাব আব্দুর রাজ্জাক ভাইকে বিষয়টা অবহিত করলাম তিনি আমাদের সাহস দিলেন এবং দায়িত্ব নিয়ে প্রোগ্রামটা ঠিক করে দিলেন। আমরা ড.ওয়াজেদ স্যারের সাথে দেখাকরে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রন জানাতে গেলে তিনি হলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক পরিচয় জানার পর হলের সহ-সভাপতি কে? তা জানতে চান। আমরা প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হয়ে যাই কারন সবজায়গায় সবাইতো সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কথাই জানতে চায় তবে স্যার আবার সহ-সভাপতি কে খুজছেন কেন?
যখন বল্লেন তিনি আমাদের এফ এইচ হলের সহ-সভাপতি অর্থাৎ ভি,পি ছিলেন তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে তিনি ভিপি, জিএসদের খুঁজছেন।আমরা তখন তাকে জানালাম এখন আর ডাকসু ইলেকশন হয়না, শুনে খুব হতাশ হয়েছিলেন।
তিনি তার প্রিয় হলে আসার কথা শুনে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন তিনি বলেছিলেন রাজ্জাক ভাই যেন সেইদিন অবশ্যই তাকে সাথে করে নিয়ে যান বল্লেন রাজ্জাক ভাই তার সংসদে এজিএস ছিলেন পরবর্তীতে হলের জি,এস হয়েছিলেন।
যেদিন আমাদের প্রোগ্রাম সেদিন তিনি যথাসময়ের অনেক আগেই রেডি হয়ে বসেছিলেন, রাজ্জাক ভাই তাকে নিয়ে হলে আসলেন তার সাথে আমরা কথা বল্লাম তিনি যেন গল্পের মাঝে তার ছাত্র জীবনে ফিরে গেলেন বল্লেন সবকথা তার মনেপড়ছে,
তার রুম, রিডিং রুম, ক্লাশ রুম, ডাইনিং, ক্যান্টিন, পুকুরঘাট ইত্যাদি সব স্মৃতি বিজড়িত স্থান।
এফ এইচ হল প্রাংগনে এসে তার সব স্মৃতি মনেকরে তিনি তার প্রখরস্মৃতিশক্তির প্রমান দিয়ে যাচ্ছিলেন, রাজ্জাক ভাই বল্লেন ড.ওয়াজেদ স্যার প্রচন্ড মেধাবী ছিলেন বেশীর ভাগ সময়ই তিনি রিডিং রুমে থাকতেন তখন সবচেয়ে মেধাবীরাই ছাত্ররাজনীতি করতেন, হলের ক্রম অনুসারে তখন ডাকশুর ভিপি জিএস হতেন। নির্বাচনের সময় ক্লাস অথবা লাইব্রেরী থেকে এসে ছাত্রসভায় বক্তব্য দিয়ে আবার ফিরে যেতেন তার প্রিয়স্থান রিডিং রুমে।
ড.ওয়াজেদ স্যার এমন একজন মানুষ ছিলেন যার তুলনা একমাত্র তিনি নিজেই হতে পারেন
ক্ষমতার উত্তাপের বিপরীতে তিনি নিরহংকারী নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ, স্থির, ইস্পাতকঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, নিভৃতচারী, নিস্কলুষ একজন মানুষ ছিলেন, যিনি তার মেধা,শ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে ক্রমেই হয়ে উঠেছিলেন সত্যিকারের আত্মমর্যাদা সম্পন্ন একজন মানুষ।
বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠনে ড. এম এ ওয়াজেদ স্যারের আদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মের পথ চলার অনুপ্রেরণা ...


No comments:
Post a Comment